ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় চরম ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার চার কলেজের দুই-তৃতীয়াংশ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের মতে, শিক্ষার্থীদের অবাধে স্মার্টফোন আসক্তি, অভিভাবকদের মনিটরিংয়ের অভাব এবং শিক্ষকদের দায়সারা মনোভাবের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার উপজেলার চারটি কলেজ থেকে মোট ৬৯২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২৪৪ জন আর ফেল করেছেন ৪৪৮ জন। উপজেলায় সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫.২৬ শতাংশে। উপজেলার চারটি প্রতিষ্ঠান মিলে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন শিক্ষার্থী।
বিপর্যয়ের মধ্যেও উপজেলা পর্যায়ে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ। এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২২ জন পাস করেছেন, যার পাসের হার ৭০.৯৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছেন।
অন্যদিকে উপজেলার প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজে বড় ধরনের পাসের ধস নেমেছে। কলেজটি থেকে ৪৯০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৫৭ জন। পাসের হার ৩২.০৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
এছাড়া আলফাডাঙ্গা আদর্শ কলেজে ১২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৩৯.৫২%), যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।
হাজী আফিজউদ্দিন আলেকজান কলেজে ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১৬ জন, পাসের হার ৩৪.০৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পাননি।
জাতীয় পর্যায়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। সে তুলনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলাফল জাতীয় গড়ের চেয়ে ১৬.৮৬ শতাংশ কম, যা স্থানীয় শিক্ষার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
আলফাডাঙ্গার ফলাফলের এমন করুণ চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব জানান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামীতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনিটরিং জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
ইখা