ভোলার চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাটে নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরছে একের পর এক মাছবোঝাই ট্রলার। তবে এসব ট্রলারের বড় একটি অংশে মিলছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ইলিশ। ঘাটজুড়ে পচা ইলিশের এমন অবস্থা দেখে হতবাক ক্রেতা ও স্থানীয়রা। এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ও সাগরে মাছ শিকারের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন জেলেরা।
জেলেদের অভিযোগ, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আড়তদারদের নির্দেশে সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন তারা। আড়তদারদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যেতে হয়েছে তাদের। এ ঘটনায় চরফ্যাশনের তিন শতাধিক আড়তদারের বিরুদ্ধে জেলেদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় শতাধিক ট্রলার ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করে। এরপর রবিবার (১ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত ঢালচর, সামরাজ ও বকসীরঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে প্রায় অর্ধশত ট্রলার শত শত টন পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ইলিশ নিয়ে নোঙর করে। জেলেদের দাবি, দীর্ঘদিন সাগরে অবস্থান করায় পর্যাপ্ত বরফের অভাবে মাছের বড় একটি অংশ পচে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সামরাজ ঘাটের একাধিক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে ও চলাকালে গত ৪ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ঘাটের কিছু আড়তদার তাদের বরফ, জ্বালানি ও খাবার দিয়ে সাগরে পাঠান। সামরাজ, নতুন স্লুইসগেট, খেজুরগাছিয়া, মাইনউদ্দি ঘাট, ঢালচর, বকসীরঘাট, ঘোষেরহাট, চরকচ্ছপিয়া, কুকরি-মুকরি ও পাতিলা ঘাট থেকে এসব ট্রলার সাগরে যায়। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় আহরিত ইলিশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে, ঘাটে পচা ইলিশের ছড়াছড়ি থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের তা কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইলিশ বিক্রিতে ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছ বিক্রিতে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিচ্ছেন আড়তদাররা। এতে মাছের দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়। যার কারণে অতিরিক্ত দাম দিয়ে ইলিশ কিনতে হয় ক্রেতাদের।
সামরাজ মৎস্যঘাটের আড়তদার অহিদ মাঝি বলেন, এই ঘাটে ৯৮ জন আড়তদারের প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় আড়তদারদের নির্দেশে জেলেদের সাগরে পাঠানো এবং পচা ইলিশ ঘাটে আসার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এছাড়াও একই ঘাটের কয়েকজন আড়তদার জানান, এসব ইলিশ সাগরের। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গভীর সাগরে জেলেরা ইলিশ শিকার করেছে।
ঘাটে মাছ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, পচা ইলিশেরও চড়া দাম চাওয়া হচ্ছে। আড়তদাররা কমিশন বাণিজ্যের পাশাপাশি নানা অজুহাতে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে মাছ শিকারের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে সাগরে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর। আড়তদারদের নির্দেশে জেলেদের সাগরে পাঠানোর বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সামরাজ মৎস্যঘাটে পচা মাছের বিষয়ে শুনেছি। তবে সাগরের অভিযান আমাদের আয়ত্তের বাহিরে হওয়ায় এ বিষয়ে বলতে পারছি না। তবে আগামীতে তথ্য পেলে এসব অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ, গেল ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পযন্ত নদী ও সমুদ্রে ইলিশসহ নিদিষ্ট কিছু প্রজাতির মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো।
ইখা