জেলার বেলকুচি আমলী আদালতে জাল মেডিকেল সনদ তৈরি করে আদালতে দাখিলের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সাবেক চিকিৎসক (বর্তমানে তাড়াশে কর্মরত) ডা. ফয়সাল আহমেদেসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এ মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোছা. রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। একই দিন আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ডা. মো. ফয়সাল আহমেদ ও মো. মোতালেব হোসেনকে।
জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ২৩ মার্চ বেলকুচি থানায় মো. মোতালেব হোসেন সাতজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২১ মার্চ একই বিরোধের ঘটনায় কয়েকজন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই সময় চিকিৎসক ডা. মো. ফয়সাল আহমেদ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একটি ভুয়া মেডিকেল সনদ প্রস্তুত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সেই সনদটি আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
জাল সনদের সত্যতা পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালতে করা মামলা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেলকুচি থানার জি আর মামলা নং–৪২/২০২৫ এর ভিকটিম হিসেবে মো. শাহজালাল, পিতা আলতাব হোসেনের নামে একটি মেডিকেল সনদ তৈরি করা হয়। তবে প্রকৃত রোগীর তথ্য পরিবর্তন করে ভিন্ন পরিচয়ে ভর্তি টিকিট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে প্রকৃত রোগী মো. শাহ জালাল, পিতা মহব্বত আলীর তথ্য কেটে পিতার নামের স্থলে আলতাফ লেখা হয়। একই সঙ্গে বয়স ৩৩ বছরের পরিবর্তে ৪০ বছর উল্লেখ করা হয়। এছাড়া গ্রাম বলদীপাড়া ও থানা শাহজাদপুরের স্থলে কদমতলী, থানা বেলকুচি লেখা হয়। একই সিরিয়ালে দুই ব্যক্তির নামে ভর্তি টিকিট তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
জানা গেছে এই জাল মেডিকেল সনদটি গত বছরের ২০ আগস্ট আদালতে দাখিল করা হয়। পরে আদালতে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে সনদের অসংগতি ধরা পড়ে। এদিকে ওই ভুয়া মেডিকেল সনদের ভিত্তিতে মামলার এক আসামি মো. ওয়াজেদ আলী (৪০) দুইবার কারাগারে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ওয়াজেদ আলী বলেন, ভুল সনদ দিয়ে আমাকে হয়রানি করা হয়েছে, জেলেও পাঠানো হয়েছে। আমি আর সুষ্ঠু বিচার চাই।
নালিশী দরখাস্ত ও দাখিলকৃত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়ায় দণ্ডবিধির ১৯৬, ৪৭১, ২১১ ও ৪৬৫ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছে সিরাজগঞ্জ সদর আমলী আদালত। এছাড়াও সমন জারির প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য আগামী ৩০ মার্চ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ডা. ফয়সাল আহম্মেদকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভড করেননি৷ এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিএম