পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মাংস সমিতি’। সারা বছর অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ঈদের আগে গরু কিনে জবাই করে সদস্যদের মধ্যে মাংস ভাগ করে নেওয়াই এসব সমিতির মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একাধিক মাংস সমিতি রয়েছে। আগে মূলত নিম্নআয়ের মানুষ এসব সমিতি গড়ে তুললেও বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যেও এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাড়া-মহল্লায় সমিতির উদ্যোগে গরু জবাই করে সদস্যদের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি করা হচ্ছে। উপজেলার চৌবাড়িয়া মাস্টারপাড়া, নৌবাড়িয়া, চর-ভাঙ্গুড়া ও উপজেলা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই মাংস ভাগাভাগি নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে।
মাংস সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি সমিতিতে সাধারণত ৪০ থেকে ১০০ জন সদস্য থাকেন। সারা বছর নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রেখে ঈদের আগে গরু কিনে জবাই করা হয়। এতে সদস্যরা তুলনামূলক কম খরচে ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত মাংস পান।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা এলাকার ভ্যানচালক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। ঈদের আগে বিভিন্ন কেনাকাটায় টাকা শেষ হয়ে যায়। তাই সমিতিতে টাকা জমা রেখে ঈদের আগে গরু জবাই করে প্রায় সাড়ে পাঁচ কেজি মাংস পেয়েছি।”
স্থানীয় কসাই মো. ডাবলু প্রামানিক জানান, ২০ রোজা থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাংস সমিতির প্রায় ১০টি গরু জবাই করেছেন তিনি। অনেক সমিতির সদস্য নিজেরা গরু কিনলেও কেউ কেউ কসাইদের মাধ্যমে গরু কিনে মাংস ভাগ করে নেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও স্থানীয় শিক্ষক এস এম নাহিদ হাসান বলেন, “গ্রামাঞ্চলের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য মাংস সমিতি একটি কার্যকর উদ্যোগ। এতে সারা বছরের সঞ্চয় ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধও জোরদার হয়।”
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান বলেন, “মাংস সমিতির উদ্যোগটি ইতিবাচক। এতে মানুষ সারা বছর সঞ্চয় করে ঈদের আগে গরু কিনতে পারে, ফলে একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয় না।”
ইখা