রাজধানীর মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসছে নতুন তিন প্রাণী। সেগুলো হলো- চিতাবাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট ও ওয়াটার বার্ড। প্রাণিগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে আনতে ওয়ার্ক অর্ডার পাঠানো হয়েছে।
কোরবানির ঈদের আগে চিড়িয়াখানায় প্রাণিগুলো চলে আসবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে নতুন কোনো প্রাণী আসছে না। তবে নতুন একটি জিরাফের বাচ্চা উন্মুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীরা দেখতে পারবেন জিরাফের বাচ্চাটিকে। এছাড়া বাঘ দম্পতি বেলি-টগরের ঘরে ৪ শাবক এসেছে। তবে সেগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।
ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিনোদনপ্রেমী মানুষের অন্যতম ভরসাস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। প্রতিবছরই ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। দর্শনার্থীর চাপ সামলাতে প্রস্ততি নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মল আনন্দ বিলিয়ে দিতে এরইমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
মিরপুরে ১৮৬ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীদের নিরপাত্তা ও হয়রানি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রেয়েছে- টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো, চিড়িয়াখানার ভেতরে হকারমুক্ত রাখা ও নিরাপত্তা টহলের ব্যবস্থা করা।
এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুপেয় পানি, মানসম্পন্ন খাবারের ব্যবস্থাসহ আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে পুরো চিড়িয়াখানাকে। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে প্রায় কয়েক লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে বলে জানান চিড়িয়াখানা পরিচালক।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজার ১০০ এর মতো প্রাণী আছে সেখানে। ১৯৭৪ সালে ১৮৬ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় মিরপুরের এই জাতীয় চিড়িয়াখানায় মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণী, ১৯ প্রজাতির বৃহৎ প্রাণী (তৃণভোজী) ২৭১টি, ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি প্রাণী রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১ হাজার ১৬২টি পাখি, অ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত ১৩৬ প্রজাতির প্রায় আড়াই হাজার মাছ। সব মিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশুপাখির খাঁচা।
নিরাপত্তার পাশাপাশি চিড়িয়াখানার পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শারিরিকভাবে চাঙ্গা রাখতে প্রাণিদের ভিটামিন ও মিনারেল পরিবেশন করা হয়েছে।
এইচএ