হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বৃহত্তর জোট গঠনের ডাক দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এমনটি করলে সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখছে বহু দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে কোনও যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তার ‘কোনো বিস্তৃত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না’। তবে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে মিত্রদের সাথে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এটি সুরক্ষিত করতে রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে নিজের নাগরিকদের রক্ষা করাই যুক্তরাজ্যের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নিজের এবং মিত্রদের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার বার্তাও দিইয়েছেন তিনি।
তিনি আরও যোগ করেন, এ মুহূর্তে কোনও বৃহত্তর সংঘাতে জড়াবে না যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে দেশটি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার মিশনে ন্যাটোকেও যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সতর্ক করে বলেছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে গড়িমসি করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’।
কিন্তু তার এই বক্তব্য খণ্ডন করে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সঙ্গে ন্যাটোর কোনও সম্পর্ক নেই। এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়। ন্যাটো মূলত ভূখণ্ড রক্ষার জন্য গঠিত একটি জোট। বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো মোতায়েন করার মতো প্রয়োজনীয় ম্যান্ডেট বা আইনগত ভিত্তি নেই।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও গালফ নিউজ
এবি