এইমাত্র
  • মাত্র ১৪ দিনেই দেশে এলো ২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স
  • ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়, প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ
  • প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন
  • যুদ্ধ আরো তিন সপ্তাহ চালানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলের
  • আমিরাতে ড্রোনের আঘাতে ভবনে আগুন
  • বুধবার সন্ধ্যায় ঈদের চাঁদ অনুসন্ধানের আহ্বান সৌদি আরবের
  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও জার্মান চ্যান্সেলর
  • এবার নেতানিয়াহুর সেই ভিডিওকে ‘ডিপফেক’ বলছে গ্রোক
  • জাল যার জলা তার, মাছ ধরতে আর ইজারা নয়: প্রতিমন্ত্রী নূর
  • ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • আজ মঙ্গলবার, ২ চৈত্র, ১৪৩২ | ১৭ মার্চ, ২০২৬
    প্রবাস

    প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন

    প্রবাসের কথা ডেস্ক প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
    প্রবাসের কথা ডেস্ক প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

    প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছেন

    প্রবাসের কথা ডেস্ক প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
    সংগৃহীত ছবি

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ইরাকের রাজধানী বাগদাদে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দিন কাটছে মিসাইল ও ড্রোন হামলা আতঙ্কে। শোবার ঘরে থেকে কর্মস্থান সবখানেই এই আতঙ্ক তাড়া করছে তাদের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস ও কনস্যুলেটের আশপাশে বসবাসরত এবং কর্মস্থল থাকা প্রবাসীরা মিসাইল ও ড্রোন হামলার আতঙ্কে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে ওইদিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হন। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোগুলোয় ব্যাপক হামলা চালিয়ে বিপর্যস্ত করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব, জর্ডান, কুয়েত এবং ইরাকে মার্কিন সেনা ছাউনি, রাডারব্যবস্থাসহ সামরিক স্থাপনাগুলোয় ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই ইসরায়েলে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরাকেও হামলা চালাচ্ছে ইরান এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই দেশটিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

    বাগদাদ এয়ারপোর্টের পাশেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা একের পর এক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে। এই এয়ারপোর্টে ক্লিনারসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি। তাদের সব সময় মিসাইল ও ড্রোন হামলার আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে একাধিক বাংলাদেশি জানিয়েছেন। বর্তমানে এই এয়ারপোর্ট দিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    মো. রাকিব নামে এক বাংলাদেশি বলেন, শনিবার সকালেও এয়ারপোর্টে হামলা হয়েছে। হামলার আগে সাইরেন বেজে ওঠে। তখন তাদের সবাইকে রুম থেকে বের হয়ে আসতে হয়। এখানে ড্রোন ও মিসাইল হামলার কোনো ছবি ও ভিডিও করার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই বাংলাদেশির ভাষ্য, জীবন নিয়ে তারা খুব শঙ্কায় আছেন।

    বাগদাদ বিমানবন্দরে কর্মরত আব্দুল করিম নামে আরেক বাংলাদেশি বলেন, মার্কিন স্থাপনার কাছে থাকাটা এখন তাদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ। কারণ মিসাইল ও ড্রোন হামলা হচ্ছে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে। বেশির ভাগ হামলা হচ্ছে সকালে আর রাতে। হামলায় পুরো বিমানবন্দর কেঁপে ওঠে। শেষ পর্যন্ত নিজের ভাগ্যে কী আছে তা নিয়ে চরম শঙ্কিত এই বাংলাদেশি। তার মতো অন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও একই অবস্থা।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের জন্য দেশে স্বজনরাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কখন কী হয়, এই আতঙ্ক বাংলাদেশিদের সব সময় তাড়া করছে বলে আব্দুল করিম জানান।

    এদিকে আইন না জেনে বা আবেগের বশে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্ব স্ব দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে বিপাকে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আইন অনুযায়ী মিসাইল ও ড্রোন হামলার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

    ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুতেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন প্রভৃতি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বলা হয়, প্রবাসীরা যেন সামাজিক মাধ্যমে ড্রোন ও মিসাইল হামলার ভিডিও-ছবি কোনোভাবেই প্রকাশ না করেন। কিন্তু অনেকেই তা শোনেননি বা মানেননি। সেই ঘটনাই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই প্রবাসীদের খুঁজে খুঁজে গ্রেপ্তার করছে। 

    এফএস

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…