চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল নেতা মো. রোকন উদ্দিন মেম্বারসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে সীতাকুণ্ড উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল।
রবিবার (১৫ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফজলুল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে সন্ত্রাস দমনে যুবদলের নেতাকর্মীরা নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু গণমাধ্যমে যুবদল নেতা রোকন উদ্দিন মেম্বারের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা তারা রাজনৈতিক হয়রানি বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলায় জড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা মো. ইসমাইল হোসেন, মো. খোরশেদ আলম মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মো. কোরান আলী সাহেদ, তাঁতীদলের সভাপতি এস. এম. লোকমান হাকিম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, খ. ম. নাজিম উদ্দীন, মো. সাহাব উদ্দিন (রাজু), মো. সাইফু উদ্দিন, মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মঞ্জুসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবদলের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।”
থানা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনটি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে একটি মামলায় রোকন বাহিনীর প্রধান রোকনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার পাহাড়ি জমি নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। ইয়াছিন বাহিনীর প্রধান ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ২১টি এবং রোকনের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইখা