এইমাত্র
  • পোশাক শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু
  • ৪ নভেম্বর থেকে সারাদেশে ৩দিন গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে
  • দেশজুড়ে আড়ংয়ের ১ লাখ গাছের চারা রোপণ
  • খরচের চাপে কৃষক, আগাম সবজি চাষে লোকসানের শঙ্কা
  • চাঁদপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
  • বরিশালে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত
  • ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, অক্টোবরে রেকর্ড প্রাণহানি
  • সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ৪ দিনের রিমান্ডে
  • ইবাদত কবুল হওয়ার ৪টি পূর্বশর্ত ও ৮ আলামত
  • গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠ: আরও জমি দেওয়ার আশ্বাস ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
  • আজ রবিবার, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১ নভেম্বর, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    খরচের চাপে কৃষক, আগাম সবজি চাষে লোকসানের শঙ্কা

    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

    খরচের চাপে কৃষক, আগাম সবজি চাষে লোকসানের শঙ্কা

    সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

    ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে ছুটছেন কৃষকেরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ রোপণ করছেন ফুলকপির চারা, আবার কেউ ব্যস্ত বাঁধাকপি, টমেটো, করলা ও শসার পরিচর্যায়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসল ফলানোর পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে কি না, সেই দুশ্চিন্তাই এখন তাঁদের নিত্যসঙ্গী।

    শীত মৌসুমকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় শুরু হয়েছে আগাম সবজি চাষের তোড়জোড়। মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজি তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে সার, বীজ, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। ফলে ভালো ফলনের আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম সবজি চাষে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত কমে যায় দাম। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মূলধন ওঠানো নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয় তাঁদের।

    উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী গ্রামের কৃষক কাঞ্চন এবার প্রায় ৩২ শতাংশ জমিতে আগাম ফুলকপি ও হলুদ রঙের ফুলকপি চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র ভরসা তাঁর কৃষিকাজ। লাভ-লোকসানের অনিশ্চয়তা থাকলেও জীবিকার তাগিদে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।


    কাঞ্চন বলেন, “লাভ হবে, নাকি লোকসান হবে, তার কোনো ঠিক নেই। লাভ হলেও চাষ করি, লোকসান হলেও করতে হয়। আমরা কৃষক মানুষ, কৃষিকাজ করতেই হবে। আমার পরিবারের ছয়জন সদস্য। এই কৃষিকাজ করেই সংসার চালাতে হয়।”

    একই এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন ৩৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তাঁর হিসাবে, এ জমিতে উৎপাদন খরচ হবে অন্তত ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন তিনি। তবে বাজারদর কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

    নাসির উদ্দিন বলেন, “সার, কীটনাশক ও সেচের ডিজেলের দাম বেড়েছে। বাজার ভালো থাকলে কিছু লাভ হতে পারে। কিন্তু ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০-৬০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি হলেও খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, সেটাই লাভ। বাজারদর কমে গেলে লোকসান গুনতে হবে।”

    চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া ফুলকপি, করলা, ঢ্যাঁড়শ ও শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। তাঁর ভাষ্য, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এই আয় দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

    অন্যদিকে নারান্দী ইউনিয়নের সনমানিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, তাঁদের এলাকার অধিকাংশ কৃষক আগাম সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত। তবে একই সময়ে বাজারে অতিরিক্ত সবজি উঠলে দাম কমে যায়। এতে উৎপাদন খরচ তুলতেই অনেক কৃষককে হিমশিম খেতে হয়।

    প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজ করছেন ৫২ বছর বয়সী কৃষক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগে যে সার ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনতেন, এখন তা ২৮ থেকে ৩০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। কৃষি উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে কৃষকের আয় বাড়ছে না। সারের দাম কমানো গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

    কৃষক বাবুল জানান, সবজি চাষে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ফসল বিক্রির পরই বোঝা যাবে লাভ হবে, নাকি লোকসান।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, রবি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৩০০ হেক্টরে আলু, ৩৫০ হেক্টরে পেঁয়াজ এবং ১৪০ হেক্টরে গম চাষ হয়। পাশাপাশি ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মরিচসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে আগাম সবজি বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তদারকি করছে। ভালো ফলন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

    কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    পিএম

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…