শ্রীলঙ্কার সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ওয়াসান্থা কারান্নাগোদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের ছেলের অবৈধ নিয়োগ ও বিদেশ প্রশিক্ষণে সহায়তার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আরব নিউজের।
যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ২০০৬ সালে ইয়োশিথা রাজাপাকসেকে নৌবাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ৭৩ বছর বয়সী অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট ওয়াসান্থা কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ শুক্রবার (৩ জুলাই) তাকে হেফাজতে নেয় দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ব্রাইবারি কমিশন।
২০০৯ সালে দীর্ঘ কয়েক দশকের তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধের শেষ দিকে দেশটির নৌবাহিনী প্রধান ছিলেন কারান্নাগোদা। ২০১৯ সালে তাকে ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদবিতে ভূষিত করা হয়। বর্তমানে নৌবাহিনীতে তার কোনও সক্রিয় ভূমিকা নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বর্তমানে জামিনে আছেন ৩৮ বছর বয়সী ইয়োশিথা রাজাপাকসে। তার বিরুদ্ধে ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ডার্টমাউথ নেভাল কলেজে প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি তহবিল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
ব্রাইবারি কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইয়োশিথা রাজাপাকসের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এই অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট দুর্নীতি করেছেন।’
কারান্নাগোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও রয়েছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০২৫ সালের মার্চে ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১১ জন যুবককে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
মাহিন্দা রাজাপাকসের ছোট ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন ২০২১ সালের অক্টোবরে এই অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতি ও অমীমাংসিত চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের প্রশাসনের অধীনে মামলাগুলো পুনরায় সচল করা হয়।
দিশানায়েক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাজাপাকসে পরিবার ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো নতুন গতি পেয়েছে। বিগত বছরগুলোতে রাজাপাকসে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সবকটিই বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এবি