পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেকদর’র রাতে মহাল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন ইসলামিক আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাত রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
ওই পোস্টে মিজানুর রহমান আজহারী লিখেছেন, ‘প্রভু হে! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাদের ক্ষমা করো।
এদিকে পবিত্র রমজান মাসের ২৭তম রজনি আজ, যা ইসলামের পরিভাষায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেকদর’। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠতম এ রাত। রাতটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে পালিত হচ্ছে।
প্রতি বছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ রাতে শবেকদর পালন করা হয়। এই রাত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটান। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।
২০ রমজানের পর যে কোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। কদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও আছে।
শবেকদরের রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কোরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কি জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর : ১-৩)।
‘শবেকদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনি আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবেকদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত। শবেকদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।
হাদিসের ভাষ্যমতে, লাইলাতুল কদর হলো রমজান মাসের শেষ দশকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদর তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে।’ (বুখারি : ২০৫৬)।
এফএস