অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চলছে এইচএসসি পরীক্ষা
সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আজ থেকে শুরু হলো ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। গতকাল বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার এই সার্বিক প্রস্তুতি ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষা মোট ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। এই বছরই প্রথম ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’, যেখান থেকে বসে দেশের যেকোনও প্রান্তের যেকোনও কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকবে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও নকল প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে। পরীক্ষা সূচি ও বিশেষ ব্যবস্থা: এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে জানানো হয়েছে, সপ্তাহের যেদিন পরীক্ষা থাকবে না, সেদিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম বা ক্লাস যথারীতি পরিচালিত হবে।মন্ত্রী জানান, নকলের জন্য খ্যাত বা বিতর্কিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো এবার পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম চরাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে কিছু দূরবর্তী ভেন্যু কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট’ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় শনিবারের পরীক্ষাগুলো কেন্দ্রের ভেতরেই সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার নিয়মিত শিক্ষার্থীর তথ্য: ২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১১৮৬৪৬১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন। তার মধ্যে ৭৯৪৪৭৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৯১৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেনি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় আলিম প্রথম বর্ষে (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১৩৯৯২৯ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন। তার মধ্যে ৭৮২৬৯ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১৬৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেনি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় একাদশ শ্রেণিতে (ভোকেশনাল) (২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) ১৬৫৫৪২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেন। তার মধ্যে ৭৫১৯৭ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেন। নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০৩৪৫ জন পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেননি। ফরম পূরণ না করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা, উত্তরপত্র সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল নজরদারির বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এবার দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি রাজধানী ঢাকায়।এইচএ
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহাদাৎ বরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে।জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকার দেশে ফিরে আসবেন।এবি
জাতীয়
সব দেখুন
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ
দেশজুড়ে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে শিক্ষা বোর্ডগুলো ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র পরিচালনা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা, উত্তরপত্র সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল নজরদারির বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কোনো কক্ষে দুইজনের কম পরিদর্শক রাখা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এবার দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি রাজধানী ঢাকায়।পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর ক্যামেরার তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তায় শৈথিল্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কেবল সাধারণ হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তির উপস্থিতি নিষিদ্ধ, শৌচাগার তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষা সংক্রান্ত সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।এবি
জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন
২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে ২১ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে ২২ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে গত ২১ জুন ২০২৬ জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। নতুন এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরিষদ বছরে অন্তত দু’বার সভা করবে। প্রয়োজন হলে এর বেশি সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিষদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, খাদ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।এছাড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ও রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সভাপতিও পরিষদের সদস্য থাকবেন।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারকে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ঔষধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়ন ও প্রতি দুই বছর অন্তর তা হালনাগাদ, ঔষধ ও কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং ঔষধ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয় সাধন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদান করবে।এবি
এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা আজ
জুলাই মাসে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়বে নাকি কমবে, সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ। সৌদি আরামকোর জুলাই মাসের সৌদি সিপির ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।গতকাল বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সৌদি আরামকো ঘোষিত জুলাই (২০২৬) মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী এ মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে।এলপিজির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার অটোগ্যাসের নতুন দামও ঘোষণা করা হবে।এর আগে গত ২ জুন সর্বশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৫৯ পয়সা কমিয়ে মূসকসহ অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।এবি
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে স্পিকার
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শাহাদাৎ বরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে।জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই স্পিকার দেশে ফিরে আসবেন।এবি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে।বুধবার (০১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি লাইনসমূহ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি পেট্রোল বোট প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ভূমিকা আশা করেন। প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা প্রকাশ করেন।সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।জাপানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।এমআর-২
শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাঠানো এই আম ভারতের বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আমগুলো কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন এবং বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পাঠানো হয়েছে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা জাতের আম।কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের জন্য ১০০টি কার্টনে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।এসবের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য ১০০ কেজি আম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ৪০০ কেজি আম পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।এইচএ
গাঢ় নীল- সি-গ্রীন শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের পোশাকে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে পুলিশ সদস্যরা তাদের নতুন ইউনিফর্ম—গাঢ় নীল ও সি-গ্রীন রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট—পরিধান করে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরকে গাঢ় নীল শার্ট ও খাকি প্যান্ট এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা সি-গ্রীন শার্ট ও খাকি প্যান্টে দেখা যায়। ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, বুধবার থেকেই নতুন পোশাকের প্রচলন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল পুলিশ সদস্যের কাছে এই পোশাক পৌঁছে দেওয়া হবে।গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশে সংস্কারের অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তনের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষিতে গত বছরের নভেম্বরে পুলিশের শার্টের রঙ লোহা-ধূসর এবং প্যান্টের রঙ কফি-বাদামি ধূসর করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে সেই পোশাক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুনরায় পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।গত ১৮ জুন পুলিশ সদর দপ্তরের জারিকৃত নতুন প্রজ্ঞাপনে পোশাকের রঙ ও ধরণে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের এবং শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টে চারটি পকেট এবং সামনে সাতটি বোতাম থাকবে। নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ এবং মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা সি-গ্রীন রঙের ব্লাউজ নির্ধারিত করা হয়েছে। এছাড়া তারা চাইলে মাথার আবরণও ব্যবহার করতে পারবেন।গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। গর্ভাবস্থায় নারী পুলিশ সদস্যরা ইউনিট প্রধানের অনুমোদনে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটের নারী সদস্যরা সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। শার্টের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার ও জ্যাকেটের রঙেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে লোহা-ধূসর রঙের জার্সির পরিবর্তে এখন নীল শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি বা কার্ডিগান ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, নতুন এই পোশাকের প্রজ্ঞাপনে জেলা পুলিশ, এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের পোশাকের ধরণ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।এইচএ
সব কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষা মনিটরিং হবে ঢাকা থেকে
এইচএসসি ও সমমনা পরীক্ষা উপলক্ষে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের কেন্দ্রের পরীক্ষা মনিটর করা যাবে।আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।মন্ত্রী জানান, পরীক্ষার ২ হাজার ৬৯৭ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে।তিনি বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে।ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জানানো হয়, এ বছর ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে ১১টি বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে ৯২ লাখ ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।মোট ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং মোট ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। মোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।এইচএ
সর্বশেষ প্রকাশিত
রাজনীতি
সব দেখুন
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তার সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভিসার আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন। বুধবার (১ জুলাই) তার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার খবর পান তিনি। এখন বিমানের টিকিট করার প্রক্রিয়া চলছে। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল ইরান যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও এস এম খালিদুজ্জামান। কয়েক দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এমআর-২
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তার সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।এনসিপি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাসে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভিসার আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন। বুধবার (১ জুলাই) তার আবেদন মঞ্জুর হওয়ার খবর পান তিনি। এখন বিমানের টিকিট করার প্রক্রিয়া চলছে। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল ইরান যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন মো. নুরুল আমীন, ড. মো. কেরামত আলী ও এস এম খালিদুজ্জামান। কয়েক দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এমআর-২
‘৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দিতে হবে, না হলে জনগণ খুলবে’
৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।বুধবার (০১ জুলাই) রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।নাহিদ বলেন, জুলাই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার ধীরগতিতে হচ্ছে। এটা আরও দ্রুত করতে হবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।তিনি বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে চলবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। আশা করছি, সরকার দ্রুতই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।এ সময় ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী উল্লেখ করে এই এনসিপির নেতা বলেন, ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। আমরা আপিলের মাধ্যমে তার কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করছি।এমআর-২
হাসপাতালে রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (২৯ জুন) প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আনম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং তার চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।ডা. আনম মনোয়ারুল কাদির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি সেই শুভকামনার বার্তাও রফিকুল ইসলাম মিয়ার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দেশের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব হিসেবে রফিকুল ইসলাম মিয়ার অসুস্থতার খবরে প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার নির্দেশনায় সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম মিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি তার পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।কয়েক দিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হলেও বর্তমানে তিনি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।২০১৮ সাল থেকে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন রফিকুল ইসলাম মিয়া। মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শয্যাশায়ী।বর্তমানে তিনি চিকিৎসক ডা. জিয়াউল হকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।এইচএ
ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
মাসব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, মাসব্যাপী এ কর্মসূচির প্রথম ধাপে মঙ্গলবার রাত ১১টায় জাতীয় শহীদ মিনারে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন করা হবে।এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সব অংশীজনের অবদানের স্বীকৃতি ও জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতেই ছাত্রদল মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কেন্দ্রীয় সংসদের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিভিন্ন ইউনিটেও এ কর্মসূচি পালন করা হবে।এনআই
আইনজীবীর কলার ব্যান্ড পরে কেন সংসদে রুমিন ফারহানা
আদালতে আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ব্যান্ড পরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিতর্কের পাশাপাশি আকর্ষণীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধান। নানা ইস্যুর ফাঁকে বেশ কিছুক্ষন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। কারণ তিনি আইনজীবীর ব্যবহৃত বিশেষ কোলার ব্যান্ড পরে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন। বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই তিনি নিজেই এই পোশাকের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।রুমিন ফারহানা বলেন, আদালতের বাইরে এই বিশেষ কলার ব্যান্ড পরা যায় না, তা তিনি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন। তবে কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের তীব্র বিরোধিতা এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমালোচনা করার অংশ হিসাবেই তিনি এই বিশেষ পোশাকের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান। রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দেশের সাম্প্রতিক অপরাধের কিছু খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসেই সারা দেশে রেকর্ড ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরি এবং ১২৯টি পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।দেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, ‘‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের কতটুকু উন্নয়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’’তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শোনেন, কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত আজ ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন হতো না।জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধানের বিষয়ে আইনি, সাংবিধানিক ও সংসদীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বাইরের কোনও আদালতের বিধি-বিধান কার্যকর হয় না। সংসদ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি বা রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেশের সংবিধান সরাসরি এই সার্বভৌম হাউসকে দিয়েছে।তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে কোনও নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে প্রবেশ করা যাবে না বা যাবে, এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা চাপানো নেই। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের প্রসঙ্গ টেনে হাস্যরসের সৃষ্টি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের ভাষায় ‘শি ইনক্লুডস হি’। তিনি রুমিন ফারহানার পোশাকটিকে অত্যন্ত ‘শোভন পোশাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘‘সংসদে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরিধানের পূর্ণ স্বাধীনতা ওই নারী সংসদ সদস্যের রয়েছে।’’পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বা বিচার বিভাগের নিজস্ব নিয়ম বা রুলস তৈরির পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেটি তাদের নিজস্ব জুরিসডিকশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি অনুযায়ী আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের ওপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে বা কোনও ডিক্টেট করতে পারে না, কিংবা একে অপরের ওপর ওভারল্যাপিং করতে পারে না। নিজে প্র্যাকটিসিং লয়ার না হওয়া সত্ত্বেও কিছুটা জুরিসডিকশন ক্রস করে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তিনি হেসে দুঃখ প্রকাশ করেন।একই সঙ্গে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের প্রশংসা করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে উন্নত হয়েছে তা তিনি আগের দিনই ক্রাইম রিপোর্টসহ খাতওয়ারি বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা সম্ভবত রুমিন ফারহানা শুনতে পাননি।এইচএ
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল জামায়াত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণমিছিল করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এমনটিই জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ে আয়োজিত ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আসার আগে জুলাইকে ঘিরে যে কথা বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে তার বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন।’তিনি বলেন, ‘জুলাই কেবল একটি মাস নয়, এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুংকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। জুলাইয়ের ইতিহাস ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।’এ সময় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১-১০ জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন, ১১-১৬ জুলাই শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা, ১৭-৩০ জুলাই শাহাদাতের ঘটনাস্থলভিত্তিক আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী, ২৪ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানকে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, ৩১ জুলাই মসজিদে মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মাহফিল, ১-৪ আগস্ট ওলামা, শ্রমিক ও মহিলা সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে ঐতিহাসিক গণমিছিল।এমআর-২
`কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালাই'
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।শফিকুর রহমান বলেন, সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এই পার্লামেন্ট মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই আশা করি যে এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না, যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ (সাল), অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত—আমি বিভক্ত বলছি না। কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো। সুতরাং আমরা সতর্ক থাকব, দুটি টায়ার যাতে সচল থাকে। এই টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ফুটো হয়ে গেলে ওই অবশিষ্ট টায়ারও চলবে না।সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।তিনি আরও বলেন, এটা তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করে ফেলি।জামায়াত আমির সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এইচএ
চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত
