এইমাত্র
  • অর্থনৈতিক করিডরের উপকার ৩ দেশই পাবে: চীনা রাষ্ট্রদূত
  • বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
  • আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • হজের প্রাক-নিবন্ধনে দিতে হবে যেসব তথ্য
  • শরীরে বাদুড় বসার পর জলাতঙ্কে ১১ বছরের শিশুর মৃত্যু
  • প্রাথমিকে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই: আপিল বিভাগ
  • ভরিতে স্বর্ণের দাম বাড়লো ২ হাজার ২১৬ টাকা
  • অভিন্ন প্রশ্নপত্র ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চলছে এইচএসসি পরীক্ষা
  • আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারের জরুরি অবতরণ, ক্রু নিখোঁজ
  • এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২ জুলাই, ২০২৬
    রাজনীতি

    আইনজীবীর কলার ব্যান্ড পরে কেন সংসদে রুমিন ফারহানা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

    আইনজীবীর কলার ব্যান্ড পরে কেন সংসদে রুমিন ফারহানা

    সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

    আদালতে আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ব্যান্ড পরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিতর্কের পাশাপাশি আকর্ষণীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধান। নানা ইস্যুর ফাঁকে বেশ কিছুক্ষন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। কারণ তিনি আইনজীবীর ব্যবহৃত বিশেষ কোলার ব্যান্ড পরে সংসদ অধিবেশনে অংশ নেন। বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই তিনি নিজেই এই পোশাকের বিষয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

    আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    রুমিন ফারহানা বলেন, আদালতের বাইরে এই বিশেষ কলার ব্যান্ড পরা যায় না, তা তিনি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন। তবে কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বলে আশা প্রকাশ করেন। 

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের তীব্র বিরোধিতা এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমালোচনা করার অংশ হিসাবেই তিনি এই বিশেষ পোশাকের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান।

     রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দেশের সাম্প্রতিক অপরাধের কিছু খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসেই সারা দেশে রেকর্ড ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরি এবং ১২৯টি পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

    দেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

    রসাত্মক সুরে তিনি বলেন, ‘‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের কতটুকু উন্নয়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’’

    তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শোনেন, কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত আজ ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন হতো না।

    জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধানের বিষয়ে আইনি, সাংবিধানিক ও সংসদীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বাইরের কোনও আদালতের বিধি-বিধান কার্যকর হয় না। সংসদ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি বা রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেশের সংবিধান সরাসরি এই সার্বভৌম হাউসকে দিয়েছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে কোনও নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে প্রবেশ করা যাবে না বা যাবে, এমন কোনও নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা চাপানো নেই। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের প্রসঙ্গ টেনে হাস্যরসের সৃষ্টি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের ভাষায় ‘শি ইনক্লুডস হি’। তিনি রুমিন ফারহানার পোশাকটিকে অত্যন্ত ‘শোভন পোশাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘‘সংসদে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরিধানের পূর্ণ স্বাধীনতা ওই নারী সংসদ সদস্যের রয়েছে।’’

    পোশাকের স্বাধীনতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বা বিচার বিভাগের নিজস্ব নিয়ম বা রুলস তৈরির পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং সেটি তাদের নিজস্ব জুরিসডিকশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি অনুযায়ী আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের ওপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে বা কোনও ডিক্টেট করতে পারে না, কিংবা একে অপরের ওপর ওভারল্যাপিং করতে পারে না। নিজে প্র্যাকটিসিং লয়ার না হওয়া সত্ত্বেও কিছুটা জুরিসডিকশন ক্রস করে এই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তিনি হেসে দুঃখ প্রকাশ করেন।

    একই সঙ্গে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যের প্রশংসা করায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে উন্নত হয়েছে তা তিনি আগের দিনই ক্রাইম রিপোর্টসহ খাতওয়ারি বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা সম্ভবত রুমিন ফারহানা শুনতে পাননি।

    এইচএ

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…