ভোলার বোরহানউদ্দিনে অসহায়, দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুটি অটোরিকশা থেকে ৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবী করা হলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জমা হয়েছে ২৪ বস্তা। বাকি ৯ বস্তার হিসাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কতুবা ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজারের বটতলা এলাকায় দুটি অটোরিকশা থেকে চাল গুলো আটক করেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, অটোরিকশা দুটিতে ৩৩ বস্তা সরকারি চাল ছিল।
পরে বিষয়টি সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে জানালে তাঁর নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনকে অবহিত করা হয়। এরপর চালগুলো উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
তবে ৩৩ বস্তা চাল জব্দ করা হলেও ইউএনও কার্যালয়ে জমা পড়ে ২৪ বস্তা। বাকী ৯ বস্তা চাল কোথায় গেল? এ নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
এদিকে, চাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কুতুবা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুই ব্যক্তি জানান, দুপুরের দিকে অটোরিকশা যোগে চাল গুলো নেওয়ার সময় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা দু'টো অটোরিকশা দাড় করিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করলে চালকরা জানান ইউপি সদস্য মামুনের নির্দেশে চাল গুলো পরিষদ থেকে অন্যাত্র নেওয়া হচ্ছিল।
তারা আরও বলেন, অটোরিকশায় ৩৩ বস্তা চাল থাকলেও ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর জানতে পারেন সেখানে ২৪ বস্তা চাল ছিলো। এঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করে পুরো ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবী জানান।
কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে যাওয়ার পর ফোনে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মনও তাঁর কার্যালয়ে ২৪ বস্তা চাল জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, স্থানীয়রা দু'টো অটোরিকশা করে ২৪ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করে নিয়ে আসেন। চাল গুলো কেথায় থেকে আসলো, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত? পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবি সত্য হলে বাকি ৯ বস্তা কোথায় গেল, চালগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, সরকারি চালের প্রকৃত হিসাব প্রকাশের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এনআই