এইমাত্র
  • নাগরপুরে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন
  • জীবননগরে চাঁদাবাজি-মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকির অভিযোগ
  • দুই সিস্টেমে দুই তথ্য, হদিস নেই কোটি টাকার কন্টেইনারের!
  • দুর্গাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম
  • শিক্ষকরা নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছাড়তে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • অর্থনৈতিক করিডরের উপকার ৩ দেশই পাবে: চীনা রাষ্ট্রদূত
  • বাংলাদেশের অভ‍্যন্তরীণ ইস্যুতে চীন কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
  • আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • হজের প্রাক-নিবন্ধনে দিতে হবে যেসব তথ্য
  • শরীরে বাদুড় বসার পর জলাতঙ্কে ১১ বছরের শিশুর মৃত্যু
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ | ২ জুলাই, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাতকানিয়ার কেরানীহাটে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ৩২ ক্যামেরা

    মো. জাহেদুল ইসলাম, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
    মো. জাহেদুল ইসলাম, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

    দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাতকানিয়ার কেরানীহাটে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ৩২ ক্যামেরা

    মো. জাহেদুল ইসলাম, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

    চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাতকানিয়ার কেরানীহাট। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই জনপদে হাজারো যানবাহনের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং লেনদেন এবং মানুষের অবাধ যাতায়াত চলে। কিন্তু এই ব্যস্ততার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই, মাদক পরিবহন, যানবাহন চুরি, সড়ক দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ ছিল স্থানীয়দের মধ্যে।

    এই বাস্তবতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কেরানীহাটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। বাজারের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিভিন্ন মোড় এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা।

    আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, নতুন স্থাপিত ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত, অপরাধ সংঘটনের ধরন বিশ্লেষণ এবং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহনের গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা সম্ভব হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে শুধু জনবল বাড়ালেই হবে না, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর নির্ভর করছে। কেরানীহাটেও সেই আধুনিক ব্যবস্থার সূচনা হলো।

    তিনি বলেন, কোনো অপরাধী যেন অপরাধ করে সহজে পালিয়ে যেতে না পারে, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের মধ্যেও একটি মানসিক চাপ সৃষ্টি হবে যে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

    এমপি আরও বলেন, কেরানীহাট দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, নারী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও এলাকায় এই প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

    সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করে না, এটি অপরাধ সংঘটনের প্রবণতাও কমিয়ে আনে। যেখানে নজরদারি থাকে, সেখানে অপরাধীরা সাধারণত অপরাধ সংঘটনে নিরুৎসাহিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কেরানীহাটে স্থাপিত এই ক্যামেরাগুলো সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

    এদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, কেরানীহাটে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই, চুরি ও প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরা চালু হওয়ায় এখন যেকোনো ঘটনার ভিডিও প্রমাণ পাওয়া যাবে, যা অপরাধ তদন্তে বড় সহায়ক হবে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু বাজার নয়, মহাসড়কেও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে যানবাহন পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে দায়ী যানবাহন শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহন, চোরাই মোটরসাইকেল কিংবা সন্দেহজনক যানবাহনের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অপরাধ দমনের অন্যতম কার্যকর উপায়। দেশের বিভিন্ন শহরে সিসিটিভির মাধ্যমে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। কেরানীহাটেও এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্যামেরা স্থাপন করেই দায়িত্ব শেষ নয়। নিয়মিত মনিটরিং, ফুটেজ সংরক্ষণ, দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রশিক্ষিত অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল মিলবে। অন্যথায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কেরানীহাটে অপরাধ প্রবণতা কমবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি আরও জোরদার হবে।

    এইচএ

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…