রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বরাদ্দ করা ফ্ল্যাটগুলোতে সাবলেটের দাপট আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সরকারের আবাসন নীতিমালা তোয়াক্কা না করে একের পর এক সরকারি বাসায় অবৈধভাবে ভাড়াটিয়া বসানো হচ্ছে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, অন্যদিকে মূল বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতিতে সরকারি আবাসনগুলোতে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বরাদ্দ করা ফ্ল্যাটের পুরোটা কিংবা আংশিক (এক বা একাধিক রুম) মোটা অঙ্কের টাকায় সাবলেট দিয়েছেন। অথচ 'বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২' অনুযায়ী বরাদ্দকৃত বাসা অন্য কারও কাছে ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি ও অপরাধমূলক। বিশেষ করে উত্তরা এলাকার আবাসন প্রকল্পগুলোতে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে কম মূল্যে সুবিধা নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা সেখানে নিজে না থেকে সাবলেট দিয়ে বাড়তি আয় করছেন।
উত্তরায় সরকারি বাসার অনিয়ম নিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের (উত্তরা জোন) প্রজেক্ট অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বাসা কোনো ব্যবসার মাধ্যম হতে পারে না। আবাসন পরিদপ্তরের নির্দেশনার পর উত্তরায় প্রতিটি ভবনে বিশেষ তল্লাশি চালানো হবে। যারা সরকারি সুবিধা নিয়ে বেআইনিভাবে সাবলেট ব্যবসা করছেন, তাদের চিহ্নিত করে বরাদ্দ বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি আবাসন এলাকার নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে উত্তরা ৪ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই সরকারি কোয়ার্টার পেয়ে নিজে অন্য কোথাও কম ভাড়ায় থাকেন অথবা পুরো ফ্ল্যাটটি সাবলেট দিয়ে বাড়তি আয় করেন। এর ফলে উত্তরার শান্ত ও সুরক্ষিত আবাসিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
অন্যদিকে, উৎখাতের ঝুঁকিতে পড়ে উত্তরায় সরকারি বাসায় সাবলেটে থাকা এক ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া তানভীর আহমেদ বলেন, কম খরচে থাকার আশায় আমরা সাবলেটে উঠেছিলাম। তবে এখন জানতে পারছি এটি আইনত অবৈধ। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর এখন হঠাৎ করে নতুন বাসা খোঁজা আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি ফ্ল্যাট থেকে সব অবৈধ ভাড়াটিয়া ও সাবলেটদের অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ফ্ল্যাটে আবশ্যিকভাবে অবস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো বাসায় সাবলেট পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালার ১৪ (৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অফিস প্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইখা