দুই সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। স্ত্রী আর সন্তানদের ঘিরেই ছিল ৩৫ বছর বয়সী সেলিম উদ্দনের সব স্বপ্ন। সুখে-দুঃখে পরিবার নিয়ে ভালোই চলছিল তাঁর দিন। কিন্তু হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হওয়ার পর বদলে যায় জীবনের চিত্র। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে নাকে পলিপাস। পরে পলিপাস থেকে টিউমার। শনাক্ত হয় ক্যান্সার। এখন চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব প্রায় সেলিম উদ্দন এর পরিবার। ভারতে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তাঁর অসহায় পরিবারের কাছে যেন এক অসম্ভব স্বপ্ন।
সেলিমরে বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর বাউসা উত্তরপাড়া গ্রামে। স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে যিনি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতেন, আজ সেই মানুষটিই নিজের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে মানুষের সহযোগিতার আশায় দিন গুনছেন। সেলিমের বাবার নাম মাজদার রহমান।
পরিবারের স্বাভাবিক জীবন চলছিল। হঠাৎ একদিন রহিমের নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর নাকের ডান পাশে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অস্ত্রোপচারের সময় ওপরের চোয়ালের দাঁতও অপসারণ করতে হয়। টিউমার দাঁতের আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে কৃত্রিম দাঁতের সাহায্যে কোনোভাবে খাবার খেতে শুরু করেন তিনি।
তবে টিউমারের ধরন দেখে চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় এর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবএইডে পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে অ্যাডিনয়েড সিস্টিক কার্সিনোমা (Adenoid Cystic Carcinoma) ক্যানসার শনাক্ত হয় বলে জানান সেলিম।
এরপর ঢাকার ডেল্টা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী ভারতে গেলে সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, বাংলাদেশে অস্ত্রোপচারটি যথাযথভাবে করা হয়নি। তাঁদের মতে, তখন আর চিকিৎসা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না। তাই তাঁরা চিকিৎসা দিতে পারবেন না বলে জানান এবং পুনরায় বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরে দেশে ফিরে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়। সেলিম জানান, পরবর্তী পরীক্ষায় আর ক্যানসারের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আবারও ২০২৪ সালের শেষের দিকে হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এবার নাকের বাম পাশে টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, ক্যান্সার আবারও বিস্তার করেছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এবার চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থ। আগের চিকিৎসার খরচ চালাতে রহিমের যা কিছু সম্বল ছিল, তা বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে নতুন করে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য আর নেই তাঁর পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা ভারতের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রেডিওথেরাপি নেওয়ার একটি বিকল্পের কথা জানিয়েছেন। এতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২৫ লাখ টাকা। বর্তমানে রহিম ঢাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে পরিবারটি। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অর্থ না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁদের জীবন।
সেলিমের কাছে ২৫ লাখ টাকা শুধু চিকিৎসার খরচ নয়, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি সম্ভাবনা। দুই ছোট সন্তানের কাছে বাবাই ভরসা, আর স্ত্রীর কাছে জীবনসংগ্রামের সঙ্গী। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই মানুষটির চিকিৎসা থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানুষ স্বপ্ন দেখে, সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় লড়াইও করে। সেলিমও চান চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার পরিবারের কাছে ফিরতে, সন্তানদের বড় হতে দেখতে। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণে এখন প্রয়োজন সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা।
সবার সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে হয়তো উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন সেলিম। আবারও স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তিনি। সহযোগীতার জন্য- ০১৭৭২৮৯৪৯৫৬ (বিকাশ), ০১৭৯৫২৬৯৫২৮ (নগদ/রকেট)।
ইখা