ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন (কুহরণ)’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মেঘ ও সন্ধ্যার গান’ উৎসব। বর্ষার মেঘ-বৃষ্টির আবহে গানে গানে নবীনদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের মধ্যে মেলবন্ধনের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় নবীনবরণ উপলক্ষে সংগঠনটির সাবেক ও নতুন সদস্য এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ইশতিয়াক ফেরদৌস ইমন, বর্তমান সভাপতি সাকিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জারিন তাসনিম পুষ্পসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দর্শকদের গাঁদা ফুল ছিটিয়ে অভিবাদন জানানো হয়।
এরপর একে একে শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘আনন্দলোকে’, ‘সখী ভাবনা কাহারে বলে’, ‘হয়তো তোমারই জন্য’, ‘ফুলের কাননে ভ্রমর এসেছে’, ‘মধুমতলিয়া’, ‘দুহাতের মুঠো ভরে’, ‘সোনার পালঙ্ক’, ‘আকাশ এত মেঘলা’, ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ ও ‘তোমারে দেখিতে মনে চায়’সহ বিভিন্ন গান। গানের সুরে বটতলা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জারিন তাসনিম পুষ্প বলেন, নবীন সদস্যদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের সিনিয়র ও সাবেক সদস্যদের সঙ্গে নতুনদের যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, তা কমিয়ে আনা এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। অনেক নবীন সদস্য সাবেকদের চেনেন না। ফলে তাঁদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। এই দূরত্ব দূর করে প্রাক্তন ও নবীনদের মধ্যে একটি সুন্দর ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আজকের আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যেহেতু বর্ষাকাল, চারদিকে মেঘ ও বৃষ্টির আবহ বিরাজ করছে, তাই এই প্রকৃতির আবহকে সামনে রেখে আমাদের অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেঘ ও সন্ধ্যার গান’। আজকের অনুষ্ঠানে মূলত আগমনী গান, বৃষ্টির গান, মেঘ ও সন্ধ্যার গানসহ বিভিন্ন বাংলা সংগীত পরিবেশন করা হয়েছে।’
সংগঠনটির সভাপতি মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘আরশীনগর প্রেজেন্টস—মেঘ ও সন্ধ্যার গান’ মূলত আমাদের নতুন সদস্যদের বরণ এবং প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। ঋতুভিত্তিক আয়োজনে বর্ষা ও বৃষ্টিকে উদযাপনের সুযোগ সাধারণত কম থাকে, সেই ভাবনা থেকেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও নবীনদের উদ্দীপনার এই সেতুবন্ধন মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও প্রাণবন্ত করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চায় ভূমিকা রাখবে।’
এইচএসএস