ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলার একটি পরিবারে কন্যাসন্তানের জন্ম ঘিরে যেন নেমেছে উৎসবের আমেজ। প্রায় ২০০ বছর পর পরিবারটিতে কন্যাশিশুর জন্ম হওয়ায় নবজাতককে রাজকন্যার মতো বরণ করে নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। হাসপাতাল থেকে মা ও মেয়েকে বাড়িতে আনতে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের পারলি এলাকার দাহিফালে পরিবারে জন্ম নেওয়া নবজাতক গার্গিকে আনতে ফুল দিয়ে সাজানো একটি রথের আয়োজন করা হয়। সেই রথে করেই মা কল্পনা ঋষিকেশ দাহিফালে ও নবজাতককে বাড়িতে নেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল ঢাক-ঢোল ও ঝাঁঝরের বাদ্য। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে রাস্তায় ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
পরিবারটির দাবি, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে দাহিফালে পরিবারে কোনো কন্যাশিশুর জন্ম হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই আক্ষেপ ঘুচেছে গার্গির জন্মের মধ্য দিয়ে। তাই নাতনিকে ঘিরে এমন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি।
গার্গির দাদা লিম্বাজি দাহিফালে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আহমেদপুর তালুকের কোলওয়াদি গ্রামের বাসিন্দা লিম্বাজি বলেন, পরিবারে কন্যাসন্তানের আগমন তাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।
তিনি বলেন, ‘পরিবারে একটি কন্যাসন্তান পাওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের। এত বছর ধরে আমাদের মনে কন্যাসন্তান না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, আজ তা পূরণ হয়েছে।’
গার্গির দাদি সুরেখা দাহিফালেও নাতনির জন্মে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের ঘরে লক্ষ্মী এসেছে, এতে আমরা ভীষণ খুশি।’
গার্গির বাবার কাছেও মেয়ের জন্ম এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘সাধারণত মানুষ ছেলে সন্তানের জন্য আকাঙ্ক্ষা করে। কিন্তু কন্যাসন্তান পাওয়ার অনুভূতি ও আনন্দ একেবারেই আলাদা। আমরা আমাদের মেয়েকে ফুলের মতো করে বড় করব।’
পরিবারটির ভাষ্য, এই আয়োজন শুধু নিজেদের আনন্দ উদযাপনের জন্য নয়; সমাজের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের মতে, কন্যাসন্তানের জন্ম কোনো দুঃখের বিষয় নয়; বরং এটি আনন্দ, গর্ব ও উদযাপনের উপলক্ষ।
গার্গির আগমন তাই শুধু একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান নয়, কন্যাসন্তানকে ঘিরে সমাজের প্রচলিত মানসিকতার পরিবর্তনেরও এক সুন্দর বার্তা হয়ে উঠেছে।
এইচএসএস