মাথায় একটি সাধারণ টুপি, শরীরে সেলাইবিহীন একখণ্ড কাপড়ের পোশাক, মুখভর্তি সাদা দাড়ি আর ঠোঁটে সবসময় লেগে থাকা মৃদু হাসি। প্রথম দেখাতেই যেন অন্যরকম এক মানুষ। তার সরল উপস্থিতি যেমন মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়, তেমনি তার জীবনযাপনও জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন ও কৌতূহলের।
বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার বেতমোর গ্রামের ‘মোল্লা বাড়ির মুন্সী’ নামে পরিচিত এই বৃদ্ধকে নিয়ে এলাকায় বহু বছর ধরে নানা গল্প প্রচলিত। বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে প্রায় ৭০ বছর বয়স হলেও তিনি কখনো ভাত খাননি। প্রতিদিনের খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি ও হালকা কিছু খাদ্য গ্রহণ করেন।
জানা যায়, তিনি এখনও বিয়ে করেননি। একসময় তার কয়েক একর জমিজমা ছিল, যা পরে মাদ্রাসার নামে দান করে দেন। বর্তমানে তিনি লতাপাতা, বাঁশ ও গাছের ডালপালা দিয়ে তৈরি একটি ছোট কুঠুরিতে একাই বসবাস করছেন।
তাকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথাও। অনেকেই বলেন, তার সঙ্গে জ্বিন-পরীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়গুলো লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস হিসেবেই বিবেচিত।
বাস্তবতা, ত্যাগ আর রহস্য মিলে বেতমোরের ‘মুন্সী’ আজও এলাকাবাসীর কাছে এক ব্যতিক্রমী মানুষ। তার জীবন নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই, আর সেই অজানাই তাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
বেতমোর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ছোটবেলা থেকেই তারা মুন্সীকে একই রকম সাদাসিধে জীবনযাপন করতে দেখছেন। তিনি কখনো কারও সঙ্গে বিরোধে জড়ান নাই এবং অধিকাংশ সময় নিজেই নিজের মতো থাকেন।
আকন বাড়ির সুমন বলেন, তিনি খুবই সহজ-সরল মানুষ। কাউকে কষ্ট দিতে দেখিনি। তিনি এখনও বিয়ে করেননি। ৭০ বছর বয়স হলেও তিনি কখনো ভাত খাননি।
সমাজকর্মী মোমেন আকন বলেন, “তাকে নিয়ে এলাকাবাসীরও বেশ কৌতূহল রয়েছে। তিনি ভাত খান না এ কথাটি সত্য। এছাড়া তিনি সমাজের মানুষের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করেন না। আমরা কয়েকবার তাকে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের কোনো আহ্বানেই তিনি সাড়া দেননি।”
এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে মুন্সী বলেন, "আমি খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটাই। আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। আমার জমি আমি একটি মাদ্রাসার নামে দান করে দিয়েছি। দান করার পর যতটুকু জমি আমার কাছে ছিল, তারও অনেকটা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবুও এসব নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আল্লাহর ওপর ভরসা করেই জীবন কাটাচ্ছি। মানুষের কাছে আমার একটাই চাওয়া আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন জীবনের শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়েই থাকতে পারি।"
এসআর