কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের মির্জানগর এলাকার কদমতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়ক থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর আনুমানিক রাত ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত গৃহবধূ মীম আক্তার (১৯) উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে ও স্বামী মো. সিয়াম এর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে।
জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন সড়কের ওপর এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে মেঘনা থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পাশ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরে ওই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেন পুলিশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় নিহত মিমের। ঘটনার দিন ভোর ৪টার আগেই মিমের স্বামী মো. সিয়াম তাঁর শাশুড়ি সুমিকে ফোন করে জানান, মিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাঁদের ঘুমন্ত রেখে মিম ঘর থেকে বের হয়ে গেছেন। পারিবারিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মিম স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথে কোনো একসময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার বাইরে আপাতত পরিবার আর কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, নিহত তরুণীর চুলের অবস্থা দেখে তাঁর আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা ছিল বলে মনে হতে পারে। তবে তাদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন বা তাঁর বিষয়ে যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর কোনো ভিত্তি থাকে, তাহলে গভীর রাতে তিনি একা বাবার বাড়ির পথ চিনে কীভাবে রওনা হলেন? এছাড়াও মরদেহের শরীরে থাকা বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে এটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে না। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মিমের স্বামীর বাড়িতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “নিহত মিমের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা প্রাথমিক তদন্ত করেছি। তার স্বামীর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা গেছে, তিনি রাত ২টার দিকে একাই ঘর থেকে বের হয়ে যান। প্রাথমিকভাবে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিকটিমের এক চাচি আমাদের জানিয়েছেন, মিমকে বদজিনে আছর করেছিল এবং তার মানসিক সমস্যাও ছিল বলে তারা দাবি করেছেন। এসব তথ্যও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।’
ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানার মাধ্যমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত রহস্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এইচএ