রাজধানীর উত্তরায় রিকশাচালককে মারধরের জেরে ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্সে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শপিং কমপ্লেক্সের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক রিকশাচালককে মারধরের অভিযোগ ওঠে উত্তরা স্কয়ারের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে একদল লোক শপিং কমপ্লেক্সটি ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে এবং দায়িত্বরত পুলিশের ওপরও হামলা চালায়।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে মামলাটি করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ওসি জানান, পুলিশের মামলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার পর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা উত্তরা স্কয়ার ভবনের দুই পাশের কাচ, দরজা-জানালা ও দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিল যে তারা প্রশাসনের কোনো নির্দেশই মানতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটজুড়ে তাণ্ডব চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেট কর্তৃপক্ষের কয়েকজন জানান, হামলা ও লুটপাটে দোকানদারদের প্রায় কোটি টাকার মালামাল ও জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা বলেন, ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের কথা কাটাকাটি থেকেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এনআই