নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল টানেলের ভেতরে শত শত কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয়জন জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হবেন- এখনও এমন আশায় রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
বিবিসি জানিয়েছে, গত বুধবারের বন্যার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯০০ জনেরও বেশি কর্মী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়াদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো হচ্ছে। জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা উদ্ধারকারীদের।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এই দূর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ, যার মধ্যে আট শতাধিক বিদেশি। নিখোঁজদের মধ্যে আনুমানিক প্রতি সাতজনের একজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনা ও নেপালি সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও করছেন সহায়তা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোমবার জানিয়েছেন, প্রকল্প এলাকাগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে জলবিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটি বহু বছর ধরে পাহাড়ি নদীগুলোর পাশে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে আসছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মাণাধীন বা নির্মাণ শেষ হওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গে বাতাস পাম্প করা শুরু করেছেন। তবে আটকে থাকা কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল।
সোমবার সকালে একটি দল একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে যাওয়া একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে আসে। অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স দূর থেকে নেপালি কর্তৃপক্ষকে ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান অভিযানে সহায়তা করছেন। তিনি বলেছেন, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়ছেন।
বিবিসি রেডিও ৪-এর ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘ওগুলোর প্রকৃত চিহ্নই হারিয়ে গেছে- সবকিছু যেন উধাও। জায়গাটি দেখতে যেন চাঁদের পৃষ্ঠের মতো। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা গেলে সেগুলোতে পৌঁছানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সাধারণত এর জন্য খনন এবং বড় বড় পাথরে বিস্ফোরণ ঘটাতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এমন পাথর রয়েছে যেগুলো বাড়ির চেয়েও বড়- আমি জীবনে আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ অভিযান।’ তবুও ভূগর্ভে আটকে থাকা মানুষদের নিয়ে তিনি কিছুটা আশাবাদী। কারণ ওপরের প্রবল বন্যার ধাক্কা থেকে ভূগর্ভস্থ পরিবেশ তাদের কিছুটা সুরক্ষা দিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে বন্যার মূল আঘাতের স্থান থেকে অনেক দূরে, ভাটির দিকে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় অস্থায়ীভাবে মৃতদেহ দাফন করা হচ্ছে। হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলো দিয়ে প্রায় তিনশ মৃতদেহ ভেসে এসে ওই এলাকার তীরে জমা হয়েছে। পচনের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
শহরের বাইরে একটি জঙ্গলের বড় অংশ খুঁড়ে সমাহিত করা হচ্ছে অনেককে। সেখানে চিকিৎসাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা শনাক্ত না হওয়া মৃতদেহগুলোর কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কাজ করছেন।
এবি