নাটোরের লালপুরে এক নারীকে (৪১) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ঐ নারীর ভাগ্নেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে অভিযুক্ত। আহত ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পালিদেহা গ্রামের হিন্দু পাড়াতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন লালপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পালিদেহা গ্রামের মহাসিন খাঁর ছেলে মো. মোস্তফা আলী (৩০) দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সংখ্যালঘু এক নারীকে (৪১) কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ওই নারীর স্বামীর মৃত্যুর পর একা থাকায় মোস্তফা তাকে প্রায়ই বিরক্ত ও উত্যক্ত করত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে ভুক্তভোগী রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় মোস্তফা আলী হাসুয়া হাতে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় ভুক্তভোগী নারী চিৎকার করলে তার ভাগ্নে এগিয়ে এসে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা ওই ভাগ্নেকে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাসুয়া দিয়ে কোপ দেয়। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার শরীরে ২০ থেকে ২৫টি সেলাই দেন। বর্তমানে সে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, অনেক দিন ধরেই আমাকে বিরক্ত করত। রবিবার (৩০আগস্ট) জোর করে ঘরে ঢুকে খারাপ কাজ করতে চায়। আমি চিৎকার দিলে আমার ভাগ্নেকে কুপিয়ে আহত করে।
অভিযোগকারী বলেন, আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর অত্যাচার করছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত মোস্তফা আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ ওঠেছে। সে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে চলাফেরা করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোস্তফা আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইখা