এইমাত্র
  • কিশোরগঞ্জে ‘কিডন্যাপ’ নববধূর ভিডিও বার্তা: ‘আমি আইছি, এনেই থাকবাম’
  • সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে চান ব্রিটিশ আইনজীবী
  • শাহজালালে অরক্ষিত শত কোটি টাকার পণ্য, নির্বিকার কর্তৃপক্ষ!
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে: ভূমিমন্ত্রী
  • তারাগঞ্জ-বুড়িরহাট সড়কের বেহাল দশা, ৪ কিলোমিটার জুড়ে গর্ত
  • পুলিশের মামলায় জীবিত, বাস্তবে মৃত দুই আওয়ামী লীগ নেতা!
  • নাটোরের লালপুরে বিধবা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
  • ট্যাক্সি-সিএনজি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি প্রবাসী-সাধারণ যাত্রী
  • প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জরুরি বার্তা দিল ডিপিডিসি
  • বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
  • আজ মঙ্গলবার, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    শাহজালাল বিমানবন্দর

    ট্যাক্সি-সিএনজি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি প্রবাসী-সাধারণ যাত্রী

    এলেন বিশ্বাস, উত্তরা (ঢাকা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
    এলেন বিশ্বাস, উত্তরা (ঢাকা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

    ট্যাক্সি-সিএনজি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি প্রবাসী-সাধারণ যাত্রী

    এলেন বিশ্বাস, উত্তরা (ঢাকা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

    হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই বললেই চলে। টার্মিনাল ভবন থেকে লাগেজ হাতে বাইরে পা রাখতেই যাত্রীদের মুখোমুখি হতে হয় এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার। সেখানে ওত পেতে থাকা ট্যাক্সি ও সিএনজি সিন্ডিকেটের হাতে রীতিমতো পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ যাত্রী ও দেশে ফেরা প্রবাসীদের।

    আইন অনুযায়ী প্রতিটি যানবাহনে মিটার কিংবা সুনির্দিষ্ট ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। বিমানবন্দর এলাকা ছাড়তে সিএনজি অটোরিকশা চালকেরা স্বাভাবিক ভাড়ার তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত দাবি করছেন। উত্তরা, এয়ারপোর্ট রোড কিংবা মহাখালীর মতো নিকটবর্তী গন্তব্যে যেতেও হাঁকা হচ্ছে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা। অন্যদিকে ট্যাক্সিক্যাবগুলোর ক্ষেত্রেও ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

    সাধারণ যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের শরণাপন্ন হলেও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সিন্ডিকেটের কঠোর বাধা। মূল টার্মিনাল বা ক্যানোপি এলাকায় অ্যাপভিত্তিক যানবাহন ভিড়তে দেওয়া হয় না বললেই চলে। রাইড শেয়ারিংয়ের চালকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে এই স্থানীয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে যাত্রীরা বাধ্য হয়েই তাদের হাঁকানো চড়া ভাড়ায় যাতায়াত করছেন।

    বিশেষ করে গভীর রাতে বা ভোরে যেসব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে, সেসব যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি জিম্মি হন। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ক্লান্ত-শ্রান্ত প্রবাসীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই বচসা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। মধ্যপ্রাচ্যফেরত এক প্রবাসী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিমানের কষ্ট শেষ করে দেশের মাটিতে নেমেই প্রথম যে জিনিসটার মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো এই ভাড়ার ডাকাতি। গভীর রাতে কোনো বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনগুণ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে।

    মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও এয়ারপোর্ট এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) অভিযান চালিয়ে চালকদের জরিমানা করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি আগের রূপ নেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাময়িক জরিমানা বা লোকদেখানো অভিযানে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়। বিমানবন্দরে সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ট্যাক্সি পিক-আপ জোন তৈরি করা এবং সব ধরনের রাইড শেয়ারিং যানবাহন অবাধে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই নৈরাজ্য বন্ধের একমাত্র উপায়।

    মোঃ রফিকুল ইসলাম (মধ্যপ্রাচ্যফেরত প্রবাসী যাত্রী) বিমানে প্রায় ১০ ঘণ্টা জার্নি করে ক্লান্ত হয়ে দেশে নামলাম। রাত আড়াইটার দিকে লাগেজ নিয়ে বের হওয়ার পর মিরপুর যাওয়ার জন্য সিএনজিওয়ালা একদামে আড়াই হাজার টাকা দাবি করল। যেখানে সাধারণ সময়ে ৫০০-৬০০ টাকা ভাড়া হওয়ার কথা  অ্যাপে বাইক বা গাড়ি ডাকব, তারও সুযোগ নেই; অ্যাপের ড্রাইভারদের নাকি ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে প্রায় তিনগুণ টাকা দিয়ে বাসায় ফিরতে হয়েছে। দেশের মাটিতে পা দিয়েই যদি এভাবে পকেট কাটা যায়, তাহলে কেমন লাগে বলুন?

    তাহমিনা আক্তার (অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রী) আমি সিলেট থেকে ফ্লাইটে ঢাকায় আসলাম। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে যাব, যা বিমানবন্দর থেকে ১০-১৫ মিনিটের পথ। সিএনজি ড্রাইভার সরাসরি ১,০০০ টাকা চাইল! কোনো মিটারের হিসাব নেই, কোনো কথা শোনে না। আমরা কি বিমানবন্দরে নেমে ডাকাতের হাতে পড়লাম? প্রশাসন যদি এগুলো না দেখে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

    আলমগীর হোসেন (বিমানবন্দর এলাকার সিএনজিচালক) সবাই খালি আমাদের দোষ দেখে, আমাদের খরচের হিসাব তো কেউ করে না। বিমানবন্দরে গাড়ি পার্ক করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গাড়ির জমার টাকা, গ্যাসের দাম আর দিনে দিনে সবকিছুর যে দাম বাড়ছে, তাতে আগের ভাড়ায় চললে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। তাছাড়া এয়ারপোর্ট এলাকায় গাড়ি ঢোকাতে এবং দাঁড় করিয়ে রাখতে আমাদেরও নানা জায়গায় খরচ (চাঁদা) দিতে হয়। রাতবিরাতে ট্রিপ মেরে যদি দুটো টাকা বেশি না পাই, তবে পরিবার চালাব কীভাবে?

    যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) পক্ষ থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

    অন্যদিকে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সিভিল ও ইউনিফর্ম টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও গাড়ি জব্দের ব্যবস্থা নিচ্ছি। সাধারণ যাত্রীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…