পাবনার ঈশ্বরদীতে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে মোঃ মতিউর রহমান অন্তর নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায়, হাতে ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধায় উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার। এসময় তারা আইনগত সুবিচারও দাবী করেন।
এ ঘটনায় আহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে সেই মামলা থেকে রক্ষা পেতে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতি মামলা দায়েরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আহত যুবকের বাবা কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও বাগানের কলা চুরি করে কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের খালাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার দিন গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক একটার দিকে তার ছেলে অন্তর ট্রাকের হেলপার ও পাশাপাশি মৎস্য চাষী মতিউর রহমান অন্তর (২৯) কাজ শেষ করে বাড়িতে আসছিল। পথিমধ্যে সাঁড়ার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়াস্থ জনৈক উজ্জলের বাড়ির নিকট পৌছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই এলাকার রফিকুল ইসলাম, লালু মালিথা, শাহিন মালিথা, কলিমুদ্দিন ওরফে কালু মালিথা ও রায়হান মালিথা ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপ নিয়ে তার ছেলে অন্তরের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অন্তরের মাথায় চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করে মাথায় ক্ষত, হাত ও পায়ের কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে চিৎকার চেচামেচী শুনে আমি সহ কয়েকজন প্রতিবেশী ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন।
এই ঘটনায় অন্তরের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আসামীদের একজনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে| এই কারণে আসামীদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মিথ্যা মামলা দায়ের করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আহত অন্তুরের মা মমতাজ বেগম অশ্রুসিক্ত কন্ঠে জানান, ছেলে মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। অন্যদিকে মিথ্যা ডাকাতি মামলার আসামী হওয়ার ভয় কাজ করছে। এই জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এই বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি মোঃ আশাদুর রহমান বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতি মামলা দায়েরের কোন সুযোগ নেই। মতিউর রহমান অন্তরের উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ রফিকুল ইসলাম নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে| অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এনআই